বিবি মরিয়মের পুত্র, ইসা কে?
তিনি কি নবী/রাসূল, নাকি এর চেয়েও বড় কিছু?
ঈসাকে কারা চিনত? কোন্ ঐতিহাসিক উৎস নির্ভরযোগ্য? তারা কি সেই বারোজন শিষ্য যারা বছরের পর বছর ধরে তাঁকে অনুসরণ করেছিল; যারা তিনি যা বলেছিলেন, যা করেছিলেন এবং যা ঘটেছিল সেই সব ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিল? অথবা যারা ঘটনার শত শত বছর পরে এসেছিল, যারা ঈসাকে কখনও দেখেনি, কোনই সাক্ষ্য বহন করেনি, তসত্বেও তারা কি তাঁর সম্পর্কে মূল গল্পটি পরিবর্তন করেছিল?
ঈসা, যাঁকে তাঁর সাহাবীরা যীশু বলে ডাকত, তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি প্রাচীন মসীহ্ সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা, জগতের নাজাতদাতা, সমস্ত মানুষের জন্য আল্লাহ্ ‘র (ঈশ্বরের) নিকট এবং জান্নাতে (পরমদেশে) যাবার একমাত্র পথ। তিনি বলেছিলেন:
“আমিই দ্বার, আমার মধ্য দিয়ে যদি কেউ প্রবেশ করে, সে নাজাত পাবে …।” (ইউহোন্না ১০:৯ আয়াত)
“আমিই পথ ও সত্য ও জীবন; আমার মধ্য দিয়ে না আসলে কেউ পিতার কাছে আসতে পারে না।.” (ইউহোন্না ১৪:৬ আয়াত)
“তোমার সঙ্গে কথা বলছি যে আমি, আমিই তিনি – আমি মসীহ্।” (ইউহোন্না ৪:২৫ আয়াত)
ইসার (যীশুর) কথা এবং তাঁর জীবন তাঁর সাহাবী/প্রেরিতদের দৃষ্টিকোনে সুসমাচারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল: মথি, মার্ক, লূক এবং ইউহোন্না। এই চারটি নির্ভরযোগ্য সুসমাচার একইরকম অত্যাবশ্যকীয় গল্প বলে, তবে প্রতিটির একটি অসাধরণ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে যা গল্পে অন্তর্দৃষ্টি এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যাখা সংযোজিত করেছে। এই সুসমাচারগুলিতে লিখিত ইসা মসীহের (যীশু খ্রীষ্টের) মতো প্রাচীন কালের খুব কম ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বই আছেন যাদের সম্পর্কে এভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
কোন কোন ধর্মগ্রন্থ শত শত বছর পরে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইসার (যীশুর) মূল গল্পটি পুনরায় লেখা হয়েছে, পুনরায় সংজ্ঞায়িত হয়েছে, তবে সেই লেখাগুলিতে তিনি কে ছিলেন এবং তিনি নিজেকে কে বলে দাবি করেছিলেন তা কাটছাট করা হয়েছে। কিন্তু এই মিথ্যা এবং অসত্য লেখাগুলি ইন্জিল কিতাবের অংশ নয়। বাইবেলে কেবল প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণীমূলক শাস্ত্রাংশ রয়েছে যেগুলিকে ইসা (যীশু) আল্লাহ’র কালাম (ঈশ্বরের বাক্য) হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন, তাঁর নিকটতম সাহাবীদের / প্রেরিতদের মতে চারটি মূল সুসমাচার এবং পত্র রয়েছে।
ইসা (যীশু) ভবিষ্যতে মিথ্যা নবীদের উত্থানের বিরুদ্ধে সতর্ক করে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছিলেন:
“ভবিষ্যতে মিথ্যা নবীদের উত্থানের বিরুদ্ধে সতর্ক করে।” (মথি ২৪:১১ আয়াত)
তাঁর সাহাবীরা/প্রেরিতরা যীশু ও সুসমাচার সম্বন্ধে মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছিলেন:
“আমরা তোমাদের কাছে যে ইঞ্জিল তবলিগ করেছি তা ছাড়া অন্য কোন রকম ইঞ্জিল যদি কেউ তবলিগ করে— তা আমরাই করি, কিংবা বেহেশত থেকে আগত কোন ফেরেশতাই করুক— তবে সে বদদোয়াগ্রস্ত হোক।” (গালাতীয় ১:৮ আয়াত)
তিনি কি মারা গিয়েছিলেন? তিনি কি পুনরুত্থিত হয়েছিলেন?
প্রেরিত পৌল উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর সাহাবীদের পাশাপাশি আরও ৫০০ জনেরও বেশি সাক্ষি ছিল যারা ইসার (যীশুর) পুনরুত্থানের পর তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এদের অধিকাংশই ঘটনার ২৫ বছরেরও বেশি সময় পর পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন, যারা ঘটনার সাক্ষ্য দিয়েছেন / নিশ্চিত করেছেন (১ করিন্থীয় ১৫:৬ আয়াত)। অনেক লোক তাঁর সলীবে-মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন, এদের মধ্যে রোমীয়রাও ছিলেন যাদের মধ্য দিয়ে সলীববিদ্ধের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। এছাড়াও, তৎকালীন স্বাধীন ঐতিহাসিক সূত্রগুলি (জোসেফাস এবং ট্যাসিটাস) রোমীয় কর্তা পন্টিয়াস পিলাতের অধীনে ইসার (যীশুর) মৃত্যু / সলীববিদ্ধ (ক্রশবিদ্ধ) হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইসা (যীশু) নিজেকে মনুষ্য পুত্র বলে অভিহিত করেছিলেন এবং নিজের মৃত্যু ও পুনরুত্থানের অনেক আগেই সেই বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন:
“ইবনুল-ইনসানকে (মনুষ্য-পুত্রকে) মানুষের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে; এবং তারা তাঁকে হত্যা করবে, আর তৃতীয় দিনে তিনি উঠবেন।” (মথি ১৭:২২-২৩ আয়াত)
মসীহ্/নাজাতদাতা (মুক্তিদাতা) হিসাবে তাঁর জীবন, মৃত্যু এবং পুনরুত্থানও বহুশত বছর আগে মূসার (মোশির) আইন পুস্তকে, নবীদের ভাববানী পুস্তকে এবং গীতসংহিতায় ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল এবং লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, নবী ইশাইয়া (যিশাইয়), যিনি ঘটনার প্রায় ৭০০ বছর আগে জীবিত ছিলেন এবং নিম্নলিখিত কালাম বা বাক্যগুলির মাধ্যমে তাঁর দু:ক্ষভোগের কারণ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন (কেবল মূল ঘটনার একটি সার-সংক্ষেপ):
“তিনি আমাদের অধর্মের জন্য বিদ্ধ, আমাদের অপরাধের জন্য চূর্ণ হলেন; আমাদের শান্তিজনক শাস্তি তাঁর উপরে বর্তিল এবং তাঁর ক্ষতগুলো দ্বারা আমাদের আরোগ্য হল। আমরা সকলে ভেড়াগুলোর মত ভ্রান্ত হয়েছি, প্রত্যেকে নিজ নিজ পথের দিকে ফিরেছি; আর মাবুদ (সদাপ্রভু) আমাদের সকলের অপরাধ তাঁর উপরে বর্তিয়েছেন।” (ইশাইয়া ৫৩:৪-৬ আয়াত)
তাঁর মৃত্যু ও পুনরুত্থানের পর ইসা মশীহ্ (যীশু খ্রীষ্ট) তাঁর সাহাবীদের বলেছিলেন:
“তোমাদের সঙ্গে থাকতে থাকতে আমি তোমাদেরকে যা বলেছিলাম। আমার সেই কথা এই, মূসার শরীয়তে (আইনে) ও নবীদের কিতাবে এবং জবুর শরীফে (গীতসংহিতায়) আমার বিষয়ে যা যা লেখা আছে, সেসব অবশ্য পূর্ণ হবে। তখন তিনি তাঁদের বুদ্ধির দ্বার খুলে দিলেন, যেন তাঁরা পাক-কিতাব (পবিত্র শাস্ত্র) বুঝতে পারেন; আর তিনি তাঁদেরকে বললেন, এরকম লেখা আছে যে, মসীহ্ দুঃখভোগ করবেন এবং তৃতীয় দিনে মৃতদের মধ্য থেকে উঠবেন; আর তাঁর নামে গুনাহ্ (পাপ) মাফের (ক্ষমার) মন পরিবর্তনের কথা সর্বজাতির কাছে তবলিগ (প্রচারিত) হবে— জেরুশালেম থেকে আরম্ভ করা হবে। তোমরাই এই সকলের সাক্ষী।” (লূক ২৪:৪৪-৪৮ আয়াত)
জান্নাতে (পরমদেশে) যাবার খোলা দরজা!
সলীবে ইসার (যীশুর) কোরবানি কেবল ইসাহী অনুসারিদের জন্যই ছিল না, বরং তা নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের জন্য সমানভাবে ছিল। আল্লাহ’র (ঈশ্বরের) কাছে আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করার জন্য তিনি আমাদের গুণাহ্ বা পাপের জন্য মৃত্যুবরণ করেছিলেন, কারণ আমাদের পাপ আমাদেরকে পৃথক করে দেয়। (যেমন স্বার্থপরতা, অশ্লীলতা, ঘৃণা, কলহ, ঈর্ষা, স্বার্থপর উচ্চাকাঙ্ক্ষা, দ্বন্দ্ব, হিংসা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নির্দয়তা ইত্যাদি)।
আল্লাহ্ (ঈশ্বর) হলেন পাক-পবিত্র এবং কোন গুনাহগারই (পাপী) তাঁর রাজ্যে/জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। কিন্তু আমাদের প্রতি তাঁর ভালবাসার কারণে, তিনি আমাদের সমস্ত অপরাধ এবং পাপ বা গুণা ইসার (যীশুর) উপর চাপিয়ে দিয়েছেন এবং জান্নাতের একটি দরজা খুলে দিয়েছেন, যে দরজা কেউ বন্ধ করতে পারবে না। ইসা (যীশু), পাপহীন ছিলেন বিধায় তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি আমাদের পাপ থেকে মুক্তি দিতে পারেন এবং আমাদের হয়ে শাস্তি ভোগ করতে পারেন, তিনি একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে জন্মগ্রহণ করতে এবং আল্লাহ’র (ঈশ্বরের) সামনে আমাদের পক্ষে বলিদানস্বরূপ মেষশাবক হতে ইচ্ছুক ছিলেন। ইসা মসীহ্ (যীশু খ্রীষ্ট) সলীবে যা অর্জন করেছিলেন, তা তিনি আমাদের সকলের জন্য করেছিলেন।
“যিনি গুনাহ্ করেন নি, তাঁকে তিনি আমাদের পক্ষে গুনাহ্স্বরূপ করলেন, যেন আমরা তাঁতে আল্লাহ্র ধার্মিকতাস্বরূপ হই।” (২ করিন্থীয় ৫: ২১ আয়াত)
“আর তিনিই আমাদের গুনাহ্র কাফ্ফারা দিয়েছেন, কেবল আমাদের নয়, কিন্তু সমস্ত দুনিয়ার গুনাহ্র কাফ্ফারা দিয়েছেন।” (১ ইউহোন্না ২: ২ আয়াত)
“অতএব এখন, যারা মসীহ্ ঈসাতে আছে তাদের প্রতি কোন দণ্ডাজ্ঞা নেই।” (রোমীয় ৮: ১ আয়াত)
মানুষের গুণাহের (পাপের) জন্য আল্লাহ্ (ঈশ্বর) একমাত্র যে বলিদান গ্রাহ্য করেছেন তা হল সলীবে ইসার (যীশুর) মৃত্যু। আর ঈশ্বর তৃতীয় দিনে ইসাকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত করে এই বলিদান গ্রহণের ঘোষণা দেন। ইসাকে নাজাতদাতা (পরিত্রাতা) হিসাবে বিশ্বাস করলে একজন ব্যক্তি শতভাগ ন্যায়সঙ্গত হয়। যে বলিদান আল্লাহ আপনাদের কাছ থেকে চেয়েছেন; ইসার বলিদানের মাধ্যমে তিনি আপনাকে তা বিনামূল্যে উপহার হিসাবে দিয়েছেন।
কেবলমাত্র একটিই পথ!
ইসাই জান্নাতে যাওয়ার একমাত্র পথ। সেখানে প্রবেশের জন্য অন্য আর কোনো পথ নেই, অন্য কোনো দরজা নেই। আপনি সুশীল জীবন যাপন করতে পারেন, নামাজ, দান-খয়রাতের মতো অনেক ভাল কাজ করতে পারেন, দরিদ্রদের সাহায্য করতে পারেন এবং যতটা সম্ভব ধর্মীয় নিয়ম কানুন মেনে চলতে পারেন, কিন্তু সেইসব আপনাকে মৃত্যুর পরে জান্নাতে নিয়ে যাবে না। যদি আপনার ভাল কাজগুলি আপনার মন্দের চেয়েও অনেক বেশি হয়, তবুও আপনার মন এবং হৃদয়ে তখনো পাপ থাকবে, এমনকি যদি আপনার বাহ্যিক কাজগুলি ভাল বলে মনে হয়। ইসাকে আপনার ত্রাণকর্তা না করে আপনি আল্লাহ’র সামনে নিজেকে ন্যায্য করতে বা পাপের ক্ষমা পেতে সক্ষম হবেন না। আপনাকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে আপনি একজন গুনাহগার এবং আপনার গুনাহের জন্য ইসার কাফ্ফারামূলক বলিদান প্রয়োজন।
আপনার কৃত কাজ বা অর্জন কোনটিই আল্লাহ’র সম্মুক্ষে ন্যায্যতা নয়, বরং ইসা আপনার জন্য যা করেছেন এবং যা অর্জন করেছেন সেটিই তাঁর সম্মুখে ন্যায্যতা। আপনি কতটা ভাল বা কতটা খারাপ ছিলেন বা অতীতে আপনি কী করেছেন তা নিয়ে নয়। আপনি ইসার কাছে আসলে পর আপনি যে অবস্থায় থাকুন না কেন নাজাত পেতে পারেন। এটি ঈমানের একটি সহজ সিদ্ধান্ত আর জীবনের যেকোন পরিস্থিতিতে সেই সিদ্ধান্তে অটল থাকার বিষয়।
“কেননা রহমতে ঈমানের মধ্য দিয়ে তোমরা নাজাত পেয়েছ এবং তা তোমাদের নিজেদের দ্বারা হয় নি, তা আল্লাহ্রই দান; তা কাজের ফল নয়, যেন কেউ গর্ব করতে না পারে।” (ইফিষীয় ২: ৮ আয়াত)
“আর অন্য কারো কাছে নাজাত নেই; কেননা আসমানের নিচে মানুষের মধ্যে এমন আর কোন নাম দেওয়া হয় নি, যে নামে আমরা নাজাত পেতে পারি।” (প্রেরিত ৪:১২ আয়াত)
আল্লাহ’র ইচ্ছা এই যেন যারা ইসাকে নাজাতদাতা হিসেবে গ্রহণ করে, তারা অন্যায় থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং ইসার মতো হয়ে ওঠে। কিন্তু তা ন্যায্যতা এবং নাজাত পাওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, কারণ আপনি নিজেই তা অর্জন করতে পারবেন না, এবং আপনাকে ইতিমধ্যে তা বিনামূল্যে উপহার হিসাবে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যেহেতু আপনি নাজাত পেয়েছেন, সেই কারণে, যিনি আপনাকে কোনও দাবি বা শর্ত ছাড়াই নাজাত দিয়েছেন, যাঁর শাস্তি পাবার কথা না, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুণ।
ইসাকে আপনার নাজাতদাতা হিসেবে গ্রহন করুণ
ইসাকে নাজাতদাতা হিসাবে গ্রহণ করা আপনার একটি ব্যক্তিগত সিধান্ত যা আপনি মুনাজাত বা প্রার্থনার মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেন। মুনাজাত করা মানে হল, ইসার সাথে কথা বলা। তিনি আপনাকে চেনেন। আমরা আপনাকে নিম্নলিখিত মুনাজাতটি করার পরামর্শ দিচ্ছি:
“মাবুদ ইসা! আমি আমার জীবনে যা ভুল করেছি সেজন্য আমি দুঃখিত। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই। আমাকে আমার গুনাহ্ থেকে মুক্ত করার জন্য, সলীবে মৃত্যুবরণ করার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ দেই। অনুগ্রহ করে আমার জীবনে এসো এবং আমাকে তোমার পাক-রূহু (পবিত্র আত্মা) দ্বারা পূর্ণ করো এবং চিরকাল আমার সাথে থাকো। প্রভু যীশু, তোমাকে ধন্যবাদ দেই, আমীন।”
এই মুনাজাতটি কি আপনার অন্তরের আকাঙ্ক্ষা?যদি হ্যাঁ হয়, তবে আমরা আপনাকে প্রার্থনা করার জন্য আমন্ত্রণ জানাই,আর ইসার প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী,তিনি আপনার জীবনে আসবেন।
আপনি যদি কখনও বাপ্তিস্ম (তরিকাবন্দি) না নিয়ে থাকেন, তাহলে আমরা পরামর্শ দিই যে আপনি যেন কোনও ইমাম (পালক) বা ইসাহী জামাতের (খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীর) সঙ্গে যোগাযোগ করেন যেন প্রভু ইসার নামে তরিকাবন্দি হতে পারেন। যেমনটি লেখা হয়েছে:
”মন ফিরাও এবং তোমরা প্রত্যেক জন তোমাদের গুনাহ্ মাফের জন্য ঈসা মসীহের নামে বাপ্তিস্ম নেও; তা হলে পাক-রূহ্রূপ দান পাবে।” (প্রেরিত ২: ৩৮ আয়াত)
পাক-রূহু (পবিত্র আত্মা)
যীশু প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, যখন তিনি এই জগৎ ত্যাগ করবেন এবং তাঁর পিতার কাছে ফিরে যাবেন, তখন তিনি পাক-রূহু (পবিত্র আত্মা/ সত্যের আত্মা) পাঠাবেন, যিনি তাঁর বিষয়ে সাক্ষ্য দেবেন এবং যারা তাঁর উপর ঈমান আনবে তাদের হৃদয়ে বাস করবেন:
“যাঁকে আমি পিতার কাছ থেকে তোমাদের কাছে পাঠিয়ে দেব, সত্যের সেই রূহ্, যিনি পিতার কাছ থেকে বের হয়ে আসেন — যখন সেই সহায় আসবেন — তিনিই আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দেবেন।” (ইউহোন্না ১৫: ২৬-২৭ আয়াত)
ইসার বেহেস্তে (স্বর্গে) আরোহণের দশ দিন পর, পঞ্চশপ্তমীর দিনে পাক-রূহু এসেছিলেন:
“পরে পঞ্চাশত্তমীর দিন উপস্থিত হলে তাঁরা সকলে এক স্থানে সমবেত হলেন। তখন হঠাৎ আসমান থেকে প্রচণ্ড বায়ুর বেগের শব্দের মত একটা আওয়াজ আসল এবং যে গৃহে তাঁরা বসেছিলেন, সেই আওয়াজে গৃহটি পূর্ণ হয়ে গেল। এমন সময়ে তাঁরা দেখতে পেলেন আগুনের জিহ্বার মত অনেক জিহ্বা অংশ অংশ হয়ে পড়ছে এবং সেই জিহ্বাগুলো এসে তাঁদের প্রত্যেক জনের উপরে বসলো। তাতে তাঁরা সকলে পাক-রূহে পরিপূর্ণ হলেন এবং রূহ্ তাঁদেরকে যেরকম কথা বলার শক্তি দান করলেন, সেই অনুসারে তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলতে লাগলেন।” (প্রেরিত ২: ১-৪ আয়াত)
ইসা তাঁর সাহাবীদের শেষ যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা হল, প্রচার-কার্য:
“বেহেশতে ও দুনিয়াতে সমস্ত কর্তৃত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। অতএব তোমরা গিয়ে সমস্ত জাতিকে সাহাবী কর; পিতার ও পুত্রের ও পাক-রূহের নামে তাদেরকে বাপ্তিস্ম দাও; আমি তোমাদেরকে যা যা হুকুম করেছি, সেসব পালন করতে তাদেরকে শিক্ষা দাও। আর দেখ, আমিই যুগের শেষ সময় পর্যন্ত প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি।” (মথি ২৮: ১৮-২০ আয়াত)
"অন্বেষণ কর, পাইবে।"
ইসা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, আপনি যদি তাঁকে অন্বেষন করেন, তাঁর কাছে যাচ্ঞা করেন এবং তাঁর বাক্য পড়েন, তবেই আপনি তাঁকে খুঁজে পাবেন:
“যাচ্ঞা কর, তোমাদিগকে দেওয়া যাইবে; অন্বেষণ কর, পাইবে; দ্বারে আঘাত কর, তোমাদের জন্য খুলিয়া দেওয়া যাইবে। কেননা যে কেহ যাচ্ঞা করে, সে গ্রহণ করে; এবং যে অন্বেষণ করে, সে পায়; আর যে আঘাত করে , তাহার জন্য খুলিয়া দেওয়া যাইবে।” (মথি ৭:৭-৮ আয়াত)
“আমি দুনিয়ার নূর (জ্যোতি); যে আমাকে অনুসরণ করে, সে কোন মতে অন্ধকারে চলবে না, কিন্তু জীবনের নূর পাবে।” (ইউহোন্না ৮:১২ আয়াত)
“আর ধন্য সেই ব্যক্তি, যে আমাকে নিয়ে মনে কোন বাধা না পায়।” (লূক ৭:২৩ আয়াত)
ইসার নিম্নলিখিত বাক্যগুলি সুসমাচারের সংক্ষিপ্তসার। যেটিকে বলা হয় “ক্ষুদ্র বাইবেল” :
“কারণ আল্লাহ্ দুনিয়াকে এমন মহব্বত করলেন যে, তাঁর এক জাত পুত্রকে দান করলেন, যেন যে কেউ তাঁতে ঈমান আনে সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।” (ইউহোন্না ৩:১৬ আয়াত)
ইসা মসীহ’কে যখন সলীববিদ্ধ করা হয়েছিল, তখন তাঁর সঙ্গে দু’জন অপরাধীকেও সলীববিদ্ধ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন বলেছিলেন: “তুমি নাকি সেই মসীহ্? নিজেকে ও আমাদেরকে রক্ষা কর। কিন্তু অন্য জন উত্তর দিয়ে তাকে অনুযোগ করে বললো, তুমি কি আল্লাহ্কেও ভয় কর না? আমরা তো একই দণ্ড পাচ্ছি। আর আমরা ন্যায়সঙ্গত দণ্ড পাচ্ছি; কারণ যা যা করেছি, তারই সমুচিত ফল পাচ্ছি; কিন্তু ইনি কোন অপকর্ম করেন নি। পরে সে বললো, ঈসা আপনি যখন আপন রাজ্যে ফিরে আসবেন তখন আমাকে স্মরণ করবেন। তিনি তাকে বললেন, আমি তোমাকে সত্যি বলছি, আজই তুমি পরমদেশে আমার সঙ্গে উপস্থিত হবে।“ (লূক ২৩:৩৯-৪৩ আয়াত)
আপনি যদি ইসা মসীহ্, তাঁর জীবন, তাঁর মৃত্যু ও পুনরুত্থানের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে আরও পড়তে চান, তবে আমরা সূচনা পুস্তক হিসেবে যোহনের সুসমাচার এবং এরপর রোমীয়দের কাছে প্রেরিত পৌলের পত্র পড়ার সুপারিশ করি। মাবুদের অনুগ্রহ ও আশীর্বাদ আপনাদের সাথে থাকুক।
আরও জানতে এই আরবী ওয়েবসাইটটি দেখুন: https://cmaa.us/